দ্যাখো এক আশ্চর্য্য মানুষ
লম্বায় আট ফুট নয়
শৌর্যের ঝালাপালা নেই
একটি কখনো গাড়ি
ব্যাট মোবাইল? না।
থেমে গেলে ঠেলে দিতে হয়
নিন্দুকের লেজারের নিচে
অসহায়
বিজ্ঞান জানে তবু
জপ্ ধ্যান এবেলা ওবেলা
অপদার্থ ভিড়ে
ম্যাচিং সোয়েটার আর ব্যাকব্রাশড্ চুলে
এক মনে পড়াশোনা করে
আর দ্যাখো শয়ে শয়ে ছেলে
এবং মেয়েরা
খুঁজে খুঁজে হয়রাণ
সাফল্যের কাঠি
ভীরু তবু অহংকার আছে
পুষে রাখে অনভিজ্ঞ তেজ
তারা বলে, "আশ্চর্য্য মানুষ,
স্মার্টনেস দাও,
বাচনভঙ্গীও নেবো
ঘষে দাও তোমার গরিমা
আমাদের গায়ে।
জব চাই, প্রসিদ্ধ জব।"
অথবা বিরক্ত তারা,
অপ্রস্তুত, পড়ার শাসনে,
বলে, "দরকার নেই কোনো
বইয়ের প্রকোপে
আমরা তো বড় হবো
স্ট্রিটস্মার্টনেসে, যদি
জব পাই, প্রসিদ্ধ জব।”
আশ্চর্য্য মানুষ,
শুনে যায় তাদের তৎপর ভনিতা
আর সব প্রত্যন্ত প্রয়াস
তারপর ভরে দেয় বোর্ড
কঠিন গণিতে
বলে, "ভেবে বলো আরো,
খুঁজে ফ্যালো বিচার বিবেক,
স্ট্রেস, স্ট্রেন, ক্যালকুলাস হবে,
স্ট্রেস, স্ট্রেন, ক্যালকুলাসতো সোজা
আসলে তো বিচার বিবেক।
জানো, মানুষের মন
সোজা পথ নয়, আঁধার গলিতে
লোভে আর ভয়ে মাখামাখি
শুয়ে থাকে।
তবু আলো আসে,
দীপ্তি আসে
দক্ষতা, প্রচণ্ড সাহস
তাও আসে
মানুষের মনে,
সে মন তোমার হোক।”
তারপর তরুণ তরুণী
জীবনের অবোধ নদীতে
ভেসে যায়
খুঁজে পায় গলাকাটা শব,
মাছরাঙা পাখী
প্রেমিক, প্রেমিকা
ই এম আই, অসফল ক্রেডিটের
বিবরণ মাসে মাসে
বস আসে, তার বস আসে
ডিরেক্টর, মিটিং-এ মিটিং-এ
খানাপিনা হয়,
শো অফ ও হয়
রাতে ফিরে আধো আধো চোখে
নিজের শিশুকে দেখে সুখ
এইটুকু
অকস্মাৎ মনে পড়ে
আরো যেন কতদিন আগে
দেখেছিলো এক আশ্চর্য্য মানুষ
সে যেন ম্যাজিক জানে
বুনেছিল স্বপ্ন এক
আমিও মানুষ হবো,
আশ্চর্য্য মানুষ!
সে স্বপ্ন কোথায়?
প্রজেক্টের ডেড্-লাইন এলে
সারা মন নিদারুণ ডেড্ ।
তখন অনেক দূরে, দোতালার ঘরে,
আশ্চর্য্য মানুষ একমনে অঙ্ক কষে।
যেন তাই সত্য —
ক্ষুরধার এইসব প্রয়াসের মানে সাধারণ ভিড়ে
যেন কত অর্বাচী —
কত ম্লান —
দিন শেষে তাই — সূর্য নিভে এলে —
ক্যাম্পাসের সাঁকো ভেঙ্গে,
বিষণ্ণ কিছুটা,
আশ্চর্য্য মানুষ
পায়ে হেঁটে
বাড়ি চলে যান ।
No comments:
Post a Comment