Friday, 16 December 2022

আশ্চর্য্য মানুষ

দ্যাখো এক আশ্চর্য্য মানুষ 

লম্বায় আট ফুট নয় 

শৌর্যের ঝালাপালা নেই 

একটি কখনো গাড়ি 

ব্যাট মোবাইল? না।

থেমে গেলে ঠেলে দিতে হয় 

নিন্দুকের লেজারের নিচে 

অসহায় 

বিজ্ঞান জানে তবু 

জপ্ ধ্যান এবেলা ওবেলা 

অপদার্থ ভিড়ে 

ম্যাচিং সোয়েটার আর ব্যাকব্রাশড্ চুলে 

এক মনে পড়াশোনা করে 


আর দ্যাখো শয়ে শয়ে ছেলে 

এবং মেয়েরা 

খুঁজে খুঁজে হয়রাণ

সাফল্যের কাঠি 

ভীরু তবু অহংকার আছে 

পুষে রাখে অনভিজ্ঞ তেজ 

তারা বলে, "আশ্চর্য্য মানুষ, 

স্মার্টনেস দাও,

বাচনভঙ্গীও নেবো 

ঘষে দাও তোমার গরিমা 

আমাদের গায়ে।

জব চাই, প্রসিদ্ধ জব।"


অথবা বিরক্ত তারা,

অপ্রস্তুত, পড়ার শাসনে,

বলে, "দরকার নেই কোনো

বইয়ের প্রকোপে 

আমরা তো বড় হবো 

স্ট্রিটস্মার্টনেসে, যদি 

জব পাই, প্রসিদ্ধ জব।”


আশ্চর্য্য মানুষ,

শুনে যায় তাদের তৎপর ভনিতা

আর সব প্রত্যন্ত প্রয়াস

তারপর ভরে দেয় বোর্ড

কঠিন গণিতে

বলে, "ভেবে বলো আরো,

খুঁজে ফ্যালো বিচার বিবেক,

স্ট্রেস, স্ট্রেন, ক্যালকুলাস হবে, 

স্ট্রেস, স্ট্রেন, ক্যালকুলাসতো সোজা

আসলে তো বিচার বিবেক।

জানো, মানুষের মন 

সোজা পথ নয়, আঁধার গলিতে 

লোভে আর ভয়ে মাখামাখি 

শুয়ে থাকে।

তবু আলো আসে, 

দীপ্তি আসে 

দক্ষতা, প্রচণ্ড সাহস 

তাও আসে

মানুষের মনে, 

সে মন তোমার হোক।”


তারপর তরুণ তরুণী 

জীবনের অবোধ নদীতে 

ভেসে যায়

খুঁজে পায় গলাকাটা শব,

মাছরাঙা পাখী

প্রেমিক, প্রেমিকা 

ই এম আই, অসফল ক্রেডিটের 

বিবরণ মাসে মাসে 

বস আসে, তার বস আসে 

ডিরেক্টর, মিটিং-এ মিটিং-এ

খানাপিনা হয়, 

শো অফ ও হয় 

রাতে ফিরে আধো আধো চোখে 

নিজের শিশুকে দেখে সুখ

এইটুকু


অকস্মাৎ মনে পড়ে

আরো যেন কতদিন আগে

দেখেছিলো এক আশ্চর্য্য মানুষ 

সে যেন ম্যাজিক জানে 

বুনেছিল স্বপ্ন এক

আমিও মানুষ হবো,

আশ্চর্য্য মানুষ!

সে স্বপ্ন কোথায়?

প্রজেক্টের ডেড্-লাইন এলে 

সারা মন নিদারুণ ডেড্ ।


তখন অনেক দূরে, দোতালার ঘরে,

আশ্চর্য্য মানুষ একমনে অঙ্ক কষে

যেন তাই সত্য — 


ক্ষুরধার এইসব প্রয়াসের মানে সাধারণ ভিড়ে 

যেন কত অর্বাচী 

কত ম্লান 

দিন শেষে তাই — সূর্য নিভে এলে —

ক্যাম্পাসের সাঁকো ভেঙ্গে, 

বিষণ্ণ কিছুটা, 

আশ্চর্য্য মানুষ

পায়ে হেঁটে 

বাড়ি চলে যান ।

Monday, 12 December 2022

নেই

কলকাতায় নেই দ্যাখো —

পুণেতে ও নেই —

প্যারিসে ও পেলাম কোথায় বলো?

ভালোবাসা, ভালোবাসা বলে

বেড়াতে বেড়াতে, 

দ্যাখো কতবার ঝগড়া হয়ে গেলো৷

অজ্ঞ

তখন আরম্ভ ছিলো,

আড়ম্বর ছিলোনা তখনো-

সুখের খুনসুটি গুণে দিন,

অজ্ঞ জানেনা কিবা আত্মার বিষাদ 


এবা তার পরিশ্রান্ত মন

নির্জন বিছানা, ঘর্মাক্ত দেহ,

উর্দ্ধে মশারি ভ্রান্তি, যায় বেলা যায়- 

ভেবে বেহদ পরিতাপ 


তাই অজ্ঞ, হরিষে বিষাদ, 

সুখ তার ভ্রান্তি সহোদর- 

এই আছে, এই বুঝি ম্লান,

ব্যথা মেখে হাসি আহ্লাদ 


Monday, 18 April 2022

ভোর

তন্দ্রার মতনই দৃশ্য ভারী হয়ে আসে৷

হয়তো হয়নি ঘুম- অনর্থক কেটে গেছে রাত- 

ভোর হোলো- 

কাঁধ থেকে প্রেতাত্মার মতো ঝুলে ঝুলে ভয়গুলো-

তাদেরকে বয়ে বয়ে ভারী হয়রান৷


ঘনঘোর খেলা এক৷

নিজেকে নিজের জঠরে চিৎ করে ফেলে দেখা- 

আর তারা ভিন্ন হয়ে ওঠে- 

শ্বেতরক্ত কৃমিদের মতো৷

খন্ডিত, অজস্র, কিলবিল করে-

সেই সব দ্বিখন্ডিতদের বিভ্রমের চিক্কুরে চমকিয়ে উঠি৷

অন্ন-থালা দেখে চমকিয়ে ওঠে যে মানুষ- বিবমিষা হয়- 

তার মতো আমিও পেঁচা মুখে জেগে বসে থাকি বিছানায়৷


ভাবি, ঘুম এলো বুঝি৷

শান্তি এলো?

আরাম এলো কি প্রাণের?


তাহলে তো সব পন্ড!

ভারী কাজ বাকি৷

কষ্ট মেখে উশুলের গেরোস্তদারী করা বাকি৷

বাড়ী ভাড়া দেওয়া হয়নিতো৷

বিজলীর বিল, ওষুধ বিষুধ-

বইপাতা ঘেঁটেঘুঁটে ঘুরে ফেলে ভ্রষ্ট বিষাদ; 

ভ্রমে, ক্ষোভে, দ্বিধায়, মনস্তাপে-

খেলার প্রগল্ভতায় বিষাদের নুন-তেতো স্বাদ নেয়া বাকি৷


আর যদি ভোর আসে- 

কুসুমে, খেয়ালে, নিম রোদে, আরাম কেদারায়- 

আসে যদি আমাকে ছাড়াই-

সেই অগ্রজ্ঞানে বসে থাকি জগদ্দল পাথরের মতো 

দুপুর অবধি৷

তখনই তন্দ্রা আসে৷

Sunday, 17 April 2022

দিন কেটে যাবে বুঝি

কতরকম কথা আসে মনে৷

পুরানো দিনের — যেমন:

দীপশঙ্কর ফুটবল খেলতো ভালো৷ 

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে

ট্রেনে মাথা দিলো, এক অবোধ্য বিকালে-

বেঁচে থাকার ইচ্ছা

ছিলোনা বুঝি তার আর-


অতীন ছিল ভালো ডাক্তার,

মদ খেয়ে সাঁতরাচ্ছিলো পুলে-

হঠাৎই ডুবে গেলো নীল কঠিন মেঝেতে,

পড়ে রইলো সে- মৃগী রোগীটির মতো-

অসহায়;

আর উঠলোনা৷


পড়া ছেড়ে সমীরণ পালিয়ে জঙ্গলে,

মেধাবী সে- জঙ্গুলে আদিবাসীদের নিয়ে

গড়ছিলো সেনা-

পুলিশেরা এক রাতে সন্ধির প্রস্তাব এনে,

গুলি করে মেরেছিলো পরের সকালে:

ভীষণ খবর৷


সমবয়সী তো সব,

আমারই দোসর, 

তবু, খুঁজলে কোথাও তারা নেই,

আমি আছি৷

তাই মনে হয়: 

শুধু শুধু প্রশ্রয় দিলো কি আমায় 

কেউ?

আমার দুর্দান্ত সেই সখাদের 

জীবনের গতি ছিল কি সহজ 

আঁকাবাঁকা আমার এই জীবনের চেয়ে?


আরো এরকম অনেক বন্ধুরা, যারা 

বেঁচে আছে, ভালো আছে বলে 

গল্প শুনি,

তাদের অবাক কীর্তির ছবি দেখি

ফোনে, ফেসবুকে -

ভাবি: এইতো আর কয়েকটা বছর, 

একসাথে-

দেখতে দেখতে দিন কেটে যাবে বুঝি৷

Saturday, 16 April 2022

শব্দ আছড়ে পড়ে

শব্দ আছড়ে পড়ে,

যেন পাহাড় ভাঙছে দিনে৷

দৌড়, দৌড়, দৌড় —

কোথায় লুকাবো?

যদি শব্দরা তাড়া করে?


প্রান্তর থেকে তেপান্তরে ধাওয়া —

প্রান্তে লুকানো অভিশপ্ত গুহা,

আড়ালে সেথায় বেদনার ছায়া পেতে —

অশরীরী যত শব্দের আসা যাওয়া৷


পাথরে পাঁজর, শুনি৷

অনধিকারের শব্দেরা আসে কাছে৷

চিরে দেয় গা, জলে ভরে দেয় চোখ,

নিঃশব্দতায় কে আর ভীষণ বাঁচে?


একি বাঁচা, নাকি পাগলপ্রতিম খেলা?

শ্বাসরোধী যত অনুভূতির ঢেউ —

ব্যথা ও বুকে ভালোবাসা ভরে ফেলা,

ভালোবেসে জেনো বাঁচতে পারেনি কেউ৷


আর নয়, আর নয়, এই জানি — 

দুয়ারবন্ধ, মনবন্ধ ঘরে,

শিথিলতায় লুকাই নিজেকে ভীরু —

কে জানে কখন শব্দ আছড়ে পড়ে৷

Friday, 15 April 2022

বাঙ্গালীবচন

 

একজন মারাঠি ভদ্রমহিলা আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন,

“এতো ব্যঙ্গ করে কথা বলো কেন?”

আমি বলেছিলাম, “আমি তো বাঙ্গালী —

ব্যঙ্গ করি অসহায় বলে৷”


বেধবার বে দিইচি- শ্লা-আ-

গদগদে আগুন থেকে নিঘ্ঘাৎ সতীরে ফিরায়ে এনিচি ঘএ-

নোবেল মেরিচি পোদ্যে৷


সে ছিলো সন্নযুগ- বাওয়া- 

এখন তো কোলাকুলি খচ্চরে খচ্চরে,

দেখা হলেই খিস্তিখেউড়ে- সন্মান!


রাস্তায় বেজায় ভিড় আর গওম, 

ঘাম ধোয়া গেঞ্জি কখন দিলপে সেঁটেছে,

বাস, ট্যাক্সি আর বদরাগী মানুষের চিৎকারে- 

মাগো, রেখেছো বাঙ্গালী করে, দয়ালু করনি-


ওম শান্তি, ওম শান্তি বলে,

এক ঢোক্ তাড়ি হোক্ কাকা৷


তেড়ে গিয়ে বলুন, গলার শির ফুলিয়ে বলুন-

কোনো কথা না শুনে, কোনো কথা বলতে না দিয়ে বলুন- 

বলুন, “কি হচ্ছে টা কি? বড্ড বাড় বেড়েছে মশাই আপনার-

এইবার কিন্তু চড় থাপ্পড় পড়বে- ভেবেছেন টা কি?

পিঠের ছাল তুলে নেবো এইবার৷”


কেমন?

জিতলেন তো?

ভয় পাইয়ে দিলেন?

চুপ করে গেল সে?


বেশ বেশ৷


তাহলে সগর্বে বাড়ি চলে যান৷

বিশ্রাম নিন৷ খাবার খান৷ টিভি দেখুন আরামে৷

শুধু দেখবেন, তিতিবিরক্ত ভাবটা যেন 

আবার একেবারে চলে না যায়;

কালকে আরও লড়াই আছে৷